ঘন্টায় ১৯০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন, জারি রেড অ্যালার্ট

ঘন্টায় ১৯০ কিমি বেগে ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন, জারি রেড অ্যালার্ট

ধেয়ে আসছে সাইক্লোন। চিনের উপকূলের দিকে ক্রমশ ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী লেকিমা। ঘন্টায় ১৯০ কিমি বেগে এই সুপার সাইক্লোন আছড়ে পড়বে বলে ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা জারি করেছে সে দেশের আবহাওয়া দফতর। ইতিমধ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে সেখানে। আগামী ২৪ ঘন্টায় এটি চিনের ঝেঝিয়াং প্রদেশে আছড়ে পড়বে বলে অনুমান আবহাওয়াবিদদের। কার্যত মহাপ্রলয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সে দেশের প্রশাসন। আর সে কারণে ইতিমধ্যে জরুরি বিভাগের সমস্ত কর্মীদের ছুটু বাতিল করা হয়েছে। তৈরি রাখতে বলা হয়েছে পর্যাপ্ত ত্রাণ।

 

অন্যদিকে, উপকূলবর্তী শহর সাংহাইয়ের হাজার হাজার মানুষকে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ইয়াংচি নদীর পূর্বাংশ এবং ইয়োলো নদীর তীববর্তী এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে জিয়াংশু ও শ্যানডং প্রদেশের বাসিন্দাদেরও। শনি থেকে সোম পর্যন্ত কিছু কিছু এলাকার রেল যোগাযোগ সুবিধাও বন্ধ রাখা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে যে সমস্ত জাহাজ রয়েছে সেগুলিকে দ্রুত নিরাপদ জায়গাতে সরে যাওয়ার জন্যে নির্দেশও দিয়েছে প্রশাসন।

 

অন্যদিকে, লেকিমাসহ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে এখন দুটি টাইফুনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উত্তরে টাইফুন কোরসা নর্দার্ন মেরিয়ানা দ্বীপ ও গুয়ামে ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়েছে। উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে এটি চলতি সপ্তাহের কোনও এক সময় জাপানে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানাচ্ছে স্থানীয় হাওয়া অফিস। লেকিমা বুধবার শক্তি অর্জন করে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়। শুক্রবার এটি তাইওয়ান অতিক্রম করছে। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দ্বীপটির বেশকিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্কুল-অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম কলকাতা২৪।

 

এরই মধ্যে তাইওয়ানের ৪০ হাজারেরও বেশি বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাইচুং শহরের উত্তরাঞ্চলে চলমান দ্রুতগতিসম্পন্ন রেল যোগাযোগও স্থগিত রাখা হয়েছে, জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি। তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানার একদিন পর লেকিমা আঘাত হানলো। ভূকম্পনের পর টানা বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। শুক্রবার লেকিমা জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমেও ঝড়ো বাতাস ও তীব্র বর্ষা নিয়ে হাজির হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির ১৪ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 viewer.com.bd
Design BY NewsTheme