থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে, পকেটে ইয়াবা রেখে টাকা নিলেন এসআই!

থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে, পকেটে ইয়াবা রেখে টাকা নিলেন এসআই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পু’লিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বি’রুদ্ধে একটি বিদ্যালয়ের দফতরি কাম নৈশপ্রহরীকে নি’র্যাতন করে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেয়ার অ’ভিযোগ পাওয়া গেছে।গত শনিবার (৩ আগস্ট) রাতে সদর উপজে’লার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগীর দাবি, পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁ’সিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে সেই পু’লিশ কর্মক’র্তা। এই ঘটনায় সোমবার পু’লিশ সুপারের কাছে লিখিত অ’ভিযোগ দিয়েছেন উবায়দুল্লাহ নামের সেই দপ্তরি। তিনি খাকচাইল গ্রামের নুরুল ইস’লামের ছেলে।এর আগে রবিবার (৪ আগস্ট) রাতে পু’লিশের সদর সার্কেল অফিসে গিয়ে জে’লা পু’লিশের অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার মুহাম্ম’দ আলমগীর হোসেন ও মো. রেজাউল কবিরের কাছে অ’ভিযোগ দেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নি’র্যাতনের শিকার ওই দফতরি।

 

পু’লিশ সুপারের কাছে লিখিত অ’ভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে এসআই জামিরুলের নেতৃত্বে সদর মডেল থা*নার ছয় পু’লিশ সদস্য খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে তারা বিদ্যালয়ের দফতরি উবায়দুল্লার কক্ষের দরজায় টোকা দেন। দরজা খোলার পর এখানে বশির নামে কেউ আছে কি-না জানতে চান। এ নামে কেউ নেই বলার পরও তারা উবায়দুল্লার পকে’টে হাত দেন। পকেট হাতিয়ে কিছু না পেয়ে আবার বলেন বাচ্চু নামে কেউ আছেন কি-না। এরপর উবায়দুল্লাকে স্কুলের সব শ্রেণি কক্ষের দরজা খুলতে বলেন এসআই জামিরুল।

 

পরে আবার তারা উবায়দুল্লার পকেট চেক করার নামে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেন। এরপরই জামিরুল তাকে বলেন, ‘তুই ইয়াবা ব্যবসা করছ, আর কোথায় কোথায় ইয়াবা আছে বল।’ এসব বলার পরই উবায়দুল্লাকে বেদম পে’টাতে থাকেন জামিরুল ও অন্য পু’লিশ সদস্যরা। দুই কানে এবং মাথায় এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মা’রা হয় উবায়দুল্লাকে। এতে তার কানের পর্দা ফেটে যায়। খবর পেয়ে উবায়দুল্লার বাবা নুরুল ইস’লাম ঘটনাস্থলে এলে তাকে আ’ট’ক করে সাদা কাগজে জো’র করে স্বাক্ষর নেন জামিরুল।

 

এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তালেব আসার পর দুই হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে উবায়দুল্লা ও তার বাবাকে ছাড়া হয়। তবে এ ঘটনা স’ম্পর্কে কাউকে জানালে মা’দক মা’মলা ফাঁ’সানোরও হুমকি দেন জামিরুল। ঘটনার পরদিন রোববার উবায়দুল্লাকে প্রথমে জে’লা সদর হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানো হয়।

 

তবে এস.আই জামিরুল ইস’লাম এ অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে কথা হলে তিনি বলেন, এ অ’ভিযোগ মিথ্যা। আমি ওই স্কুলে যাইনি। অ’ভিযোগ করা উবায়দুল্লাহকেও আমি চিনি না। কি কারণে অ’ভিযোগ করা হয়েছে তাও জানি না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার (প্রশা*সন ও অ’প’রাধ) মো. আলমগীর হোসেন, প্রথমে আমাদেরকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়। আজ এ বিষয়ে লিখিত অ’ভিযোগ পেয়েছি। ত’দন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019 viewer.com.bd
Design BY NewsTheme