সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

অমিত শাহ’র বক্তব্যের উচিৎ জবাব দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

Reporter Name / ৯৯৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ৭:১৯ অপরাহ্ন

‌‘বাংলাদেশের গরিবরা খেতে পায় না, তাই ভারতে আসে’ আনন্দবাজারকে দেওয়া বিজেপির সাবেক সভাপতি ও ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র এমন বক্ত’ব্যের জা’বাব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞা’ন সী’মিত। আমাদের দেশে এখন কেউ না খে’য়ে ম’রে না। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) অমিত শাহের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে চাইলে ড. মোমেন সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

 

বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে এগিয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক জ্ঞা’নী লোক আছেন, দেখেও দেখেন না। জেনেও জানেন না। তবে তিনি (অমিত শাহ) যদি সেটা বলে থাকেন, আমি বলব, বাংলাদেশ নিয়ে তার জ্ঞা’ন সী’মি’ত। বরং ক্ষেত্র বিশেষে বাংলাদেশ তাদের দেশ থেকে অনেক এগিয়ে। ড. মোমেন জানান, ভারতের লোকদের ৫০ শতাংশের ভালো কোনো বা’থরু’ম নেই। আর আমাদের ৯০ শতাংশ লোকই ভালো বাথরুম ব্যবহার করেন। আমার দেশের শিক্ষিত লোকের চাকরির অ’ভাব আছে। তবে অশিক্ষিত লোকের চাকরির অ’ভাব নেই। আর ভারতের লক্ষাধিক লোক বাংলাদেশে চাকরি করে। তাই আমাদের ভারতে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

 

তিনি বলেন, তারা যদি এ ধরনের চিন্তা করে থাকেন, তাহলে আমি বলব, তাদের জ্ঞা’নের প’রি’ধি বাড়াতে হবে। আর তাদের মনে হয় আমরা সঠিক তথ্য জানাতে পারিনি। এটা আমাদের দীনতা। তাদের সঠিক তথ্য জানাতে আমরা সচেষ্ট থাকব। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) অমিত শাহের একটি সা’ক্ষা’ৎ’কার প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। অমিত শাহ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় সমস্যা অ’নুপ্রবে’শ। এটি ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী একটি রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে রাজনৈতিক কায়েমি স্বার্থের কারণে প্রথমে কমিউনিস্ট এবং পরে তৃণমূল অনুপ্রবেশকে ম’দ’ত দিয়েছে, তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্র’তিরো’ধ করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের ক্র’মব’র্ধমান জনসংখ্যা শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের জন্য চিন্তার। আগামী ১০ বছর পর কলকাতার নাগরিকও অনুপ্রবেশ থেকে বাঁচতে পারবে না।

 

তিনি বলেন, এখানে অনেক মানুষ শ’রণা’র্থী হয়ে এসে বে’আইনিভা’বে বসবাস করছে। আমরা এখানে ক্ষমতায় এসে নাগ’রিকত্ব সংশো’ধ’নী আ’ইনের মাধ্যমে তাদের সম্মানজনকভাবে বাঁ’চার অধিকার দেব। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের জীবনযাত্রারও অনেক পরিবর্তন হবে।এরপর ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, গত ১০-১৫ বছরে বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থিক উন্নয়ন হয়েছে। তারপরও কেন লোকে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ করছে? জবাবে অমিত শাহ বলেন, এর দুটি কারণ। এক, বাংলাদেশের উন্নয়ন সীমান্ত এলাকায় নিচুতলায় পৌঁছায়নি।

 

যেকোনও পিছিয়ে-পড়া দেশে উন্নয়ন হতে শুরু করলে সেটি প্রথমে কেন্দ্রে হয়। আর তার সুফল প্রথমে বড়লোকদের কাছে পৌঁছায়, গরিবদের কাছে নয়। বাংলাদেশে এখন সেই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে গরিব মানুষ এখনও খেতে পাচ্ছে না। সেই কারণেই অনুপ্র’বেশ চলছে। আর যারা অনু’প্রবে’শকারী, তারা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই থাকছে, তা নয়। তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, জম্মু-কাশ্মীর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। ‘দ্বিতীয়, আমি মনে করি, এটি প্র’শা’সনিক সমস্যা। প্রশাসনিকভাবেই এর মোকাবিলা করতে হবে। সেটি পশ্চিমবঙ্গের সরকার করেনি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

কি খুঁজছেন?

তারিখ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর