আয়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করায় এরদোগানকে ওমানের গ্র্যান্ড মুফতীর শুভেচ্ছা

274
পড়েছে

ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়াকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তরিত করায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও তুর্কি জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ওমান সালতানাতের গ্র্যান্ড মুফতী শেখ আহমদ বিন হাম্মাদ আল খলিলী।

 

তিনি বলেন, আমরা পৃথিবীর সকল মুসলিমকে বিশেষ করে আমাদের প্রকৃত সহোদর তুর্কি মুসলিম ও তাদের পরিপক্ব অগ্রনায়ক নেতা রজব তাইয়েব এরদোগানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এরদোগানকে এই কারণে অভিনন্দন জানাচ্ছি যে, তিনি মসজিদে পুনরায় রূপান্তরের মাধ্যমে আয়াসোফিয়ার পুরনো স্মৃতি নতুনকরে ফিরিয়ে এনেছেন।

 

গত রবিবার (১২জুলাই) আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরের ব্যাপারে ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্টে তিনি এই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।টুইট বার্তায় শেখ আহমদ খলিলী লেখেন, এরদোগান আয়াসোফিয়াকে আল্লাহর সেই সমস্ত ঘরের একটিতে রূপান্তর করেছেন, যার ব্যাপারে কুরআন পাকে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন- ”في بيوت إذن الله أن ترفع و يذكر فيها اسمه،يسبح له فيها بالغدووالآصال“

 

অর্থ:আল্লাহ যেসব গৃহকে মর্যাদায় উন্নীত করার এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।(সূরা নূর,আয়াত ৩৬।)ওমানের এই গ্র্যান্ড মুফতী আরেক টুইট বার্তায় বলেন, এটি (পুনরায় মসজিদে রূপান্তর) ছিল অকুতোভয় তুর্কি মুসলিম ও তাদের অগ্রনায়ক এরদোগানের একটি সফল পদক্ষেপ। এমনকি ইসলাম বিদ্বেষীদের নিন্দা ও সমালোচনায় জর্জরিত হয়েও তারা মোটেও হতাশ হননি বরং তারা তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের জন্য দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে গিয়েছে। এটি শুধু তুর্কিদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নয় বরং এখানে জড়িয়ে রয়েছে মুসলিমদেরও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

 

তিনি আরো বলেন, সুলতান আল-মুজাফফর আল-মনসুর মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের সময় থেকে নিয়ে উসমানীয় সুলতানদের শেষ অবধি আয়াসোফিয়ায় ইসলামী রীতিনীতি পালন করা হতো। এমনকি সেখান থেকেই শরয়ী আইন ও ইসলামের সুস্পষ্ট আহবান ছড়িয়ে দেওয়া হতো। যুগের পালাবদলে আয়াসোফিয়া এক পর্যায়ে সেই সমস্ত গাদ্দারদের নিয়ন্ত্রণে আসে, যারা নিজেদের ধর্মের পবিত্রতা নিয়ে ছেলেখেলা করতে এবং ধর্মের মান-মর্যাদা ধূলিসাৎ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না। গাদ্দাররা এই ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপনা নিয়ে এমন কাণ্ডকীর্তি করল যেমনটি তারা ধর্মের পবিত্রতা ও মান-মর্যাদা নিয়ে করেছিলো। তারা আল্লাহর ঘর মসজিদ হিসেবে খ্যাত আয়াসোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করল।

 

শেখ খলিল আরো বলেন, এতকিছুর পরেও এটা খুবই আনন্দের যে তুরস্কের শীর্ষ আদালত ১৯৩৪ সালের ২৪ নভেম্বর তুরস্কের মন্ত্রীসভার বিতর্কিত (আয়াসোফিয়াকে জাদুঘরে রূপান্তরের)সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় মসজিদ হিসেবে উন্মুক্ত করে দেওয়ার যুগান্তকারী রায় দিয়েছে।

 

তিনি বলেন, হে,প্রকৃত নেতা! এই বীরোচিত পথে আপনার উৎসর্গ ও নেতৃত্বের জন্য আপনাকে জানাই শুভেচ্ছা। আপনি সামনে এগিয়ে যান। নিন্দুকদের কটু আওয়াজে বিভ্রান্ত হবেন না, তারা তো উভয় জগতে নিকৃষ্টতর ও লাঞ্চিত। তাদের স্থান জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। নিশ্চয় তারা অপদস্থ হবে যেমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা অপদস্থ হয়েছিল। আপনি দৃঢ়পদে সিরাতুল মুস্তাকীমের পথে বিচরণ করুন, কেননা মুসলিমরা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আপনার জন্য দুআ করে যাচ্ছে।

 

প্রায় পাঁচশত বছরের স্মৃতি বিজড়িত আয়াসোফিয়া মসজিদকে জাদুঘর থেকে পুনরায় মসজিদে রূপান্তর করণে তুরস্কের শীর্ষ আদালতের রায়ের পর প্রেসিডেন্ট এরদোগানের বিরোধিতায় উঠেপড়ে লেগেছে পশ্চিমা বিশ্ব। এ বিরোধিতায় প্রকাশ্যে নাম লেখিয়েছে আমেরিকা, গ্রিস, ফ্রান্স,ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ চার্চ-সহ মুসলিম বিরোধী শক্তিগুলো।মসজিদে রূপান্তরে আদালতের আদেশের পর আয়াসোফিয়া নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মায়াকান্না বেড়েই চলছে, পাশাপাশি বাড়ছে এরদোগানবিরোধী প্রোপাগান্ডা।

 

তবে পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধিতার কড়া জবাব দিয়েছেন এরদোগান। তিনি বলেন, ইস্তাম্বুলে আল্লাহর ইবাদত পালনার্থে আয়াসোফিয়াকে পুনরায় মসজিদ হিসেবে উন্মুক্তকরণ তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্যান্য রাষ্ট্রের উচিত তুরস্কের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। এটি আইনি প্রক্রিয়ায় শীর্ষ আদালতের রায়ের মাধ্যমে নেওয়া একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। আদালতের রায়ের উপর অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগতদের যে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে তার বিন্দুমাত্র ভিত্তি নেই।

 

তিনি আরো বলেন, সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ কনস্টান্টিনোপল বিজয় করে তার নাম দেন ইস্তাম্বুল এবং এই বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে আয়াসোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তরিত করে স্বীকৃতি স্বরূপ জুুমু’আর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তাতে মসজিদের আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ করেছিলেন। আমাদেরও উচিত ইস্তাম্বুল বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন আয়াসোফিয়া মসজিদকে মসজিদ হিসেবেই বাঁচিয়ে রাখা।

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here