ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না কাতার

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভা’বিকীকরণ ইসরায়েল-ফিলি’স্তিন সং’ঘা’তের সমাধান হতে পারে না বলে ম’ন্তব্য করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর পথে হাঁটবে না দোহা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লুলওয়াহ আল-খাতের বলেছেন, আমরা মনে করি না যে এই সংঘা’তের মূল কারণ ছিল সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ। এটা কোনও সমাধান হতে পারে না।

 

তিনি বলেন, এই সংঘাতের মূল বিষয় হলো বিপর্য’য়কর পরিস্থিতি। যে পরিস্থিতিতে ফিলিস্তি’নিরা রাষ্ট্র’হী’ন হয়ে, দখলদারিত্বের কবলে জীবন-যাপন করছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সঙ্গে সং’যু’ক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চু’ক্তিতে সাক্ষরের পর কাতার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল।

চুক্তি অনুযায়ী, ইসরা’য়েলের সঙ্গে আমিরাত এবং বাহরাইন কূ’টনৈতিক, বাণিজ্যিক, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে। এই চু’ক্তিকে আরব দেশ দুটির চূড়ান্ত বিশ্বা’সঘা’তকতা বলে নি’ন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ল’ড়াইয়ে এই চু’ক্তি অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে বলে স’মা’লোচনা করেছেন তারা।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যু’দ্ধের আগের ডি-ফ্যাক্টো সীমান্ত অনুযায়ী একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চান ফিলিস্তিনি নেতারা। ওই যু’দ্ধের পর পশ্চিম তীর, গা’জা উপত্যকা এবং পূর্ব জে’রুজা’লেম দখল করে নেয় ইসরায়েল। অ’বৈধ এই দখলদা’রিত্বের অব’সান ঘ’টাতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে আরব রাষ্ট্রগুলো।

একই সঙ্গে ফিলি’স্তি’নি শরণার্থী সমস্যার সমাধান এবং স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতের মাধ্যমে স্বাধীন এবং স্থায়ী ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হবে বলে জানিয়ে আসছিল তারা। চলতি মাসের শুরুর দিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার বলেন, ‘ইসরায়েল-ফিলিস্তিন স’ঙ্ক’টে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানে কাতারের সমর্থন রয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘা’তের অবসানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।’

ব্লুমবার্গকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কাতারের সঙ্গে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন কয়েকটি আরব দেশের তিন বছরের কূ’টনৈতিক টা’নাপো’ড়ের অবসান শিগগিরই ঘটতে পারে বলে আশাপ্রকাশ করেছেন আল-খাতের। স’ন্ত্রা’সবা’দে সমর্থন এবং ইরান ঘনি’ষ্ঠতার অভিযোগ এনে ২০১৭ সালের ৫ জুন কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযু’ক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিসর।

পরে দোহার বি’রু’দ্ধে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অব’রোধ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন এসব দেশ; মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় বি’চ্ছি’ন্ন হয়ে পড়ে কাতার। যদিও কাতার বারবার এই অভি’যোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, কূ’টনৈতিক সম্পর্ক ছি’ন্ন করার মতো ন্যায়সঙ্গত কোনও কারণ নেই।

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here