সরকারের নিকট মালয়েশিয়ার অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা দেয়ার দাবি

মালয়েশিয়াতে অবস্থানরত অনিয়মিত বা আনডকুমেন্টেড কর্মীদের নিয়ে নানা রকম আলোচনা সমালোচনা চলছে। বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ আহ্বান করা হচ্ছে আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা থেকে সকল অবৈধদের বৈধতা দেয়া আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার নির্মাণশিল্প কে পুনরায় উজ্জীবিত করে তুলতে এবং এই সেক্টরটির কর্মপরিবেশ আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে নির্মাণ সেক্টর কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল অবৈধ কর্মীদের বৈধতা প্রদান করার দাবি জানিয়েছেন রিয়েল এস্টেট এন্ড হাউসিং ডেভেলপার এসোসিয়েশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জেরি চ্যান।

 

জেরি চ্যান আরো বলেছিলেন এসব শ্রমিকদের অবহিত করা প্রয়োজন কারণ তারা এই সেক্টরটিতে লাভজনকভাবে নিযুক্ত হয়েছেন এবং পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে অবৈধ বা ডকুমেন্টেড শ্রমিকরা নির্মাণ শিল্পে কাজ করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সেক্টর যেমন এগ্রিকালচার প্লান্টেশন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তাদেরকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

 

অবৈধদের কে শুধু নির্মাণ সেক্টরে যে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে তা কিন্তু নয় তাদেরকে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান কৃষি ক্ষেত্র বৃক্ষরোপণ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে সেটা অস্বীকার করার মতো বিষয় নয়।তিনি মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম ফ্রী মালয়েশিয়া টুডে বলেন যে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই বা প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয় চায় তারা তাদের দায়িত্বগত দিক দিয়ে পরিষ্কার থাকতে ঠিক যেমনটি পুত্রাজায়া লকডাউন এর ভিতর কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ এদেরকে গ্রেফতার করেছে। যা দেশের আইন অনুযায়ী করা হয়েছে এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করবেই। চায়নার বলেন যে এই কার্ড ডাউন ভাদ্রেস্বর অভিযানের ফলে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলো বা কোম্পানিগুলোতে শ্রমিক ঘাটতি দেখা দিবে যা এই এনসিওর কারণে তাদের ব্যবসায় পরিচালনা করার ক্ষেত্রে প্রবল প্রভাব ফেলবে এতে করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ইতিমধ্যে দেশের প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দু’মাসের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছে।

 

এসব কোম্পানিগুলোর বিদেশি শ্রমিকদের প্রয়োজন কারণ এইসব খাতে মালয়েশিয়ানদের বেশি মজুরি দিলেও তারা কাজে আগ্রহী নয় তাই এসব সেক্টরে বিদেশী শ্রমিক বাধ্যতামূলক। তিনি বলেছিলেন যে নির্মাণ শিল্পে কাজ করা শ্রমিকদেরকে বৈধতা দেয়া হলে যেকোনো ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে এবং তারা কোন সমস্যা তৈরি করবে না। নির্বাণ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে এইসব শ্রমিকদেরকে প্রয়োজন।তবে এইসব শ্রমিকদের উপর সরকার কড়া নজর রাখতে পারে এবং অপরাধমূলক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টিকারী শ্রমিকদের কে অবিলম্বে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো উচিত।

 

গতকাল খবর পাওয়া গেছে যে কুয়ালালামপুরের প্যাভিলিয়ন দূতাবাস নির্মাণ প্রকল্পে সংক্রামিত শ্রমিকদের সংস্পর্শে আসার জন্য সোয়াব টেস্ট করার পর ১৪৫ বিদেশী শ্রমিক পালিয়েছে। সেখানে কোভিড -১৯-এর জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ২৮ জন বিদেশি কর্মী আক্রান্তের পর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here