সিলেটি মেয়ের সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠার গল্প, যার পুঁজি ছিল মাত্র ৩০ হাজার টাকা!

পিছিয়ে থাকার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তাইতো অল্প পুঁজিতে শুরু করে এখন সফল উদ্যোক্তা। তবে এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ সুখের অনেক কাব্য। তিনি সিলেটের মেয়ে, কর্মসূত্রে ঢাকায় বসবাস করেন। একজন সফল নারী উদ্যোক্তা “বঙ্গজ” এর স্বত্বাধিকারী বনানী চৌধুরী সীমা।

 

তিনি পাশাপাশি একজন নৃত্য শিল্পী এবং নৃত্যশৈলীর একনিষ্ঠ সদস্য। সিলেটের মধ্যে তিনিই প্রথম যে জামদানি নিয়ে কাজ করে লাখপতি হয়েছেন। সফল নারী উদ্যোক্তা বনানী চৌধুরী সীমা জানিয়েছেন, এই সফলতার পিছনে রয়েছে তার সহযোদ্ধা ও বন্ধু এবং স্বামী বিপ্লব কর।

সীমা জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর চাকুরি ও “সাত বছর” চাকুরি ছাড়ার” পর সংসার আর সন্তান সামলিয়ে আবার নতুন করে শুরু করার সার্বক্ষণিক উৎসাহ ও পরামর্শ জুগিয়েছেন প্রাণপ্রিয় বর। সীমা বলেন, স্বামীর উৎসাহে আমার এই পথ চলা।

 

পরিশ্রম, নিষ্ঠা, সততা আর মেধাকে পুঁজি করে পা বাড়িয়েছেন অনলাইনে জামদানি শাড়ী বিক্রী। এই এগিয়ে চলাই আজ তাকে ক্ষুদ্র শিল্পোদ্যোক্তা অদম্য একজন নারী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে এই সমাজে। সীমা নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রতিকূলতাকে জয় করে আজ স্বাবলম্বী নারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন।

 

উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের গল্প শুনতে চাইলে সীমা বলেন, আমার স্বামীর হাত ধরেই ফেসবুকের ই-কমার্স গ্রুপ “উই”তে যোগ দেয়া ২৬ শে জুন। এই গ্রুপে (ডিএসবির) জামদানির উপর একটি পোস্ট পড়েছি। পোস্টটি পড়তে পড়তে জামদানির প্রতি আমার একটা ভালো লাগা ও ভালোবাসা তৈরি হয়ে যায়।

 

উই এর ফাউন্ডার ও প্রেসিডেন্ট নাসিমা আক্তার নিশা আপু ও সার্চ ইংলিশের ফাউন্ডার ও সিইও রাজীব আহমেদ স্যারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ এতো বড় একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছেন আমাদের নতুন উদ্যোক্তাদের। প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি, জানছি। কাজে লাগাতে পারছি। উই এর হাত ধরেই আজ দেশের বাইরে দেশীয় পণ্য কে পরিচিত করতে পেরেছি, ভালোবাসা তৈরি করতে পেরেছি।

 

বনানী চৌধুরী সীমা আরো জানান, মাত্র ৩০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি এ বছরের ১২ জুলাই শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। বর্তমানে তার মোট বিক্রির অর্থের পরিমাণ বর্তমানে ৩ লাখ টাকা।নিজস্ব কারিগর দ্বারা তৈরীকৃত তার শাড়ী, জামদানি থ্রিস পিস, টু পিস ও পাঞ্জাবির মূল্য আর ৮৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

 

বনানী চৌধুরী সীমা বলেন, কাঠের ফ্রেমে হ্যান্ডি পেইন্টিং গহনা তৈরি করে আমার স্বামী বিপ্লব কর। তিনি একজন প্রথিতযশা আর্টিস্ট।অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বনানী চৌধুরী সীমা জানান, বঙ্গজের গহনা ও শাড়ী দেশ থেকে এখন বিদেশেও যাচ্ছে। আমেরিকা, প্যারিসের পর এবার যাচ্ছে লন্ডন। আগামী ডিসেম্বরে যাবে কানাডা।

 

বনানী চৌধুরী সীমা অনলাইন ব্যবসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি হচ্ছে ব্যাপক ও বিস্তৃতভাবে অনলাইনের সকল প্লাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার সর্বোচ্চ উন্নয়ন সাধন করা। আমি ট্রেড লাইসেন্স করবো অনলাইন ব্যবসার পরিচয় দিয়ে। আমি চাই, একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট খুলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জামদানি শাড়ী ছড়িয়ে দিতে। এতে আমাদের স্বপ্নও ছড়িয়ে যাবে সারা দুনিয়ায়।

 

পরিশেষে বলবো, আমরা যারা তাঁত নিয়ে কাজ করছি তাদের দেশের তাঁত শিল্পকে বিদেশের মাটিতে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং তাঁত শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়িত্ব মনে করি।

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here