স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতি পেতেই কেটে গেল ২১ বছর

স্ত্রী-সন্তানের স্বীকৃতি পেতেই কেটে গেল ২১ বছর। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ত্রী ও সন্তানকে অস্বীকার করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা।

 

এতে অস্বীকৃতিদানকারী শামসুল হককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। এ রায়ের ফলে স্বীকৃতি পেল ওই স্ত্রী-সন্তান। দণ্ডপ্রাপ্ত শামসুল পলাতক রয়েছেন। একই সঙ্গে এ মামলার অপর দুই আসামির দোষ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।

 

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ কানাইপুর গ্রামের ইয়াসিন হাওলাদারের ছেলে শামসুল হক হাওলাদার একই উপজেলার গদাধরদী গ্রামের অজুফা বিবির শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়ে হাওয়া বেগমের প্রতি কুদৃষ্টি পড়লে মিথ্যা বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

 

এতে হাওয়া বিবি গর্ভবতী হয়ে পড়লে শামসুল হক হাওলাদার তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দেয় না। পরে বিজ্ঞ আদালতে ১৯৯৯ সালের ২৮ অক্টোবর হাওয়া বেগমের মা অজুফা বিবি তার শ্রবণ প্রতিবন্ধী মেয়ের গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি ও তার মেয়েকে স্ত্রীর দাবিতে মামলা করেন। পরবর্তীতে কালকিনি থানার এসআই মো. ওয়াদুদ ওই বছরেরই ১৮ নভেম্বর ঘটনার সত্যতা পেয়ে চার্জশিট জমা দেন।

 

মাদারীপুর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান সিংহ জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। মামলার আসামি শামসুল হক মামলাটি দীর্ঘায়িত করার জন্য নানা ধরনের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত মামলাটি দীর্ঘ শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয়। জরিামানার টাকা বাদী অজুফা বিবিকে ৫ লাখ ও ভিকটিম হাওয়া বিবিকে ৫ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

 

লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান জানান, ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলায় স্ত্রী হিসেবে ও জন্ম নেয়া সন্তানের স্বীকৃতি এবং ভরণপোষণ বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং আসামির বিচার দাবি করা হয়।

 

রায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করেন আদালত। জরিমানার অর্ধেক পাবে মামলার বাদী ও বাকি অর্ধেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরীকে দিতে বলা হয়েছে।

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here