মালয়েশিয়ায় আজ আক্রান্তের বেশিরভাগই বাংলাদেশী কর্মী, একটি হোস্টেলেই ৫৩ জন

গত দুই দিন আক্রান্তের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এলেও আজ আবারও বেড়ে গেছে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা। আজ মালয়েশিয়াতে নতুন ১০৩ জন আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে নেগেরি সেম্বিলানের নিলাই এলাকার একটি কারখানায় ১জন স্থানীয় সহ ৫৩ জন বাংলাদেশী আক্রান্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক দাতুক ডাঃ নূর হিশাম আবদুল্লাহ বলেছেন যে নতুন আক্রান্তের বেশিরভাগই নেগেরি সেমবিলান রাজ্যের পেডাস কারখানায় সৃষ্টি নতুন ক্লাস্টার এবং বিদেশি কর্মী জড়িত একটি ক্লিনিং কোম্পানির ক্লাস্টার বা দলবদ্ধ সংক্রমণ।আজকের আক্রান্তের বেশিরভাগই বিদেশি শ্রমিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। ১০৩ জনের মধ্যে ৮৪ জনই বিদেশি কর্মী এবং ৮৪ জনের মধ্যে একজন স্থানীয় সহ ৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছে পেডাস কারখানায় এবং আরও ২৪ জন একটি প্রাইভেট ক্লিনিং কোম্পানি থেকে এসেছে। এদিকে কুয়ালালামপুরের পুডু এলাকায় আরও ৩ জন বিদেশি শ্রমিকের আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

 

আক্রান্তদের মধ্যে ৭ জন বিদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে যার মধ্যে মিশর থেকে ৪ জন, সৌদি আরব থেকে ২ জন এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ১ জন এসেছেন যাদের সাথে ১২ জন স্থানীয় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দাতু ডাঃ নুর হিশাম আব্দুল্লাহ।আজ মালয়েশিয়াতে ৬৬ জন সুস্থ হওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে যার ফলে এই পর্যন্ত মোট ৬,২৩৫ জন বা ৮০.৬৪ শতাংশ করোনা রোগী সুস্থ হয়েছে যেখানে সর্বশেষ কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৭৩২ জন রেকর্ড করা হয়েছে। ডাঃ নূর হিশাম বলেছিলেন যে, একটি অনুমোদিত প্রাইভেট ক্লিনিকে বেসরকারি ক্লিনিং কোম্পানির কর্মীদের কোভিড-১৯ টেস্ট করার পর আরেকটি বড় দলবদ্ধ আক্রান্ত বা ক্লাস্টারের তথ্য পাওয়া গেছে।

 

এদিকে আজও মালয়েশিয়াতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মালয়েশিয়াতে টানা ৭ দিন ধরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করেনি। নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১১৫ জন বা ১.৪৯ শতাংশ রয়ে গেছে।তিনি বলেছিলেন যে, ঐ কোম্পানির কর্মীদের কোভিড-১৯ এর কোন লক্ষন না থাকার পরেও টেস্ট করার পর এটি ধরা পড়েছে যা ঐ কোম্পানি প্রশংসার দাবী রাখে। সম্ভবত কুয়ালা লাংগাত এবং নিলাইয়ের বিদেশি কর্মী হোস্টেলে বসবাসের ব্যবস্থা ঘনবসতিপুর্ন ও গাদাগাদি অবস্থা হওয়ার কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

 

তিনি বলেন এই সংক্রমণ যেন আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে তাই অবিলম্বে শ্রম আইনের মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের জীবনযাত্রার বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার হয়ে পড়েছে। তবে শ্রমিকদের মাঝে আজ আক্রান্তের সবাই বাংলাদেশী শ্রমিক বলে জানিয়েছেন তিনি।

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here