শিশুকে ন’গ্ন করে নি’র্যাতন, প্রবাসী মায়ের কাছে ভিডিও পাঠিয়ে টাকা চাইলেন চাচা

474
পড়েছে

প্রবাসী মায়ের কাছ থেকে টাকার নেওয়ার জন্য ৬ বছর বয়সী আপন ভাতিজাকে অ’মা’নুষিক নি’র্যাতন করে সেই ভিডিও সৌদি আরবে তার মায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন চাচা স্বপন। ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার চরগাঁও গ্রামে।ভুক্তভো’গী শিশুর নাম জিসান। তার বয়স ৬ বছর বলে জানিয়েছেন তার মা সুমনা বেগম।জিসানের মা বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমার স্বামী মা’রা গেলেও আমি শ্বশুড়বাড়িতেই থাকতাম। সুমাইয়া (৮) নামে আমার আরও একটি মেয়ে রয়েছে। গত দুই মাস আগে আমি গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব যাই। সৌদি আরব যাওয়ার আগে আমি আমার দুই শিশু সন্তানকে দেবর ও শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে রেখে যাই।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য কিছু টাকাও দিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুই মাস যেতে না যেতেই আমার কাছে আমার দেবর স্বপন আরও টাকা দাবি করে। এরপর জিসানকে অমা’নুষিক নি র্যা তন করে, তার ভিডিও করে সৌদি আরবে আমার কাছে পাঠায় স্বপন। পরে এই ভিডিও দেখে আমি গত শুক্রবার দেশে ফিরে আসি।’জিসানকে নি’র্যাতনের সেই ভিডিও গণমাধ্যমকে দেন সুমনা বেগম।ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরের মেঝেতে বসে হা’উমাউ করে কাঁ’দছে গায়ে কোনো কাপড়ছাড়া ৬ বছরের শিশু জিসান। তার দিকে তেড়ে গিয়ে বাজে ভাষায় গা’লাগা’লি করতে করতে লা থি মা রছেন অভিযু’ক্ত চাচা স্বপন।

 

এতে আরও দেখা যায়, চ’ড়-থা’প্পড় এবং লা’থি-ঘু’ষি মা’রার পরে স্বপন শিশুটির গোপ’নাঙ্গ ধরেও টান দিচ্ছেন। এরপর ওই শিশুটির দুই পা ধরে তাকে উ’ল্টো দিকে ঝুঁ’লিয়ে আ’ছাড় মা’রার ভ’য় দেখাচ্ছিলেন। তখন শিশু জিসান বার বার ‘ও মা’, ‘ও মা’ বলে চি’ৎকার করছিল।সুমনা বেগম জানান, এখন তিনি তার দুই সন্তানকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে তার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবে যাওয়ার আগে দেবর স্বপনকে একটি রিকশা কিনে দেই এবং নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়ে যাই যাতে আমার সন্তানদের দেখে রাখে। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য স্বপনকে একটি স্মার্টফোনও দিয়েছিলাম। কিন্তু দুই মাস পার না হতেই আমার ছেলেকে মা’রধ’র করে সেই মোবাইল দিয়েই ভিডিও করে আমার কাছে পাঠায়।’

 

ভিডিও দেখে সুমনা বেগম সৌদি আরবে তার মালিকের কাছে কা’ন্নাকাটি করলে চলতি মাসের বেতনসহ ওই মালিক তাকে দ্রুত দেশে পাঠান বলেও জানান তিনি।দেশে এসে সুমনা বেগম স্থানীয় সোনালী ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে ওই ব্যাংকের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ তার কাছে এত তাড়াতাড়ি দেশে ফিরে আসার কারণ জানতে চান। এরপর তিনি ওই ম্যানেজারকে কাঁ’দতে কাঁ’দতে পুরো ঘটনাটি বলেন এবং ভিডিওটিও দেখান।এরপরই ব্যাংক ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় সুমনা বেগমকে আ’ইনি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।’শিশুটির চাচা স্বপনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, তিনি এমন কোনো অভিযোগ বা ভিডিও পাননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র-আমাদের সময়

মতামত দিতে চান?

Please enter your comment!
Please enter your name here